সম্প্রতি ইরানে ঘটে যাওয়া একের পর এক রহস্যময় হামলা এবং বিস্ফোরণের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক চাপ বাড়িয়ে তুলেছে। এই ঘটনাগুলো মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি করছে, যা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি এবং আসন্ন নির্বাচনের ওপর প্রভাব ফেলছে। হোয়াইট হাউসকে এখন এসব হামলার পেছনে কারা জড়িত, যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা কী এবং কীভাবে পরিস্থিতি শান্ত করা যায়, তা নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হচ্ছে।
প্রেক্ষাপট ও সময়রেখা: দীর্ঘদিনের উত্তেজনা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্পর্ক দীর্ঘকাল ধরেই উত্তেজনাপূর্ণ। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর এই উত্তেজনা নতুন মাত্রা পায়। ২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সঙ্গে সম্পাদিত আন্তর্জাতিক পারমাণবিক চুক্তি (জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অফ অ্যাকশন – JCPOA) থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেয়। এরপর থেকে ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের নীতি গ্রহণ করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা।
ট্রাম্প প্রশাসনের “সর্বোচ্চ চাপ” নীতি
ট্রাম্পের "সর্বোচ্চ চাপ" নীতির মূল লক্ষ্য ছিল ইরানকে নতুন করে পারমাণবিক চুক্তির টেবিলে ফিরিয়ে আনা এবং তাদের আঞ্চলিক প্রভাব খর্ব করা। এই নীতির ফলস্বরূপ ইরানের অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব পড়ে এবং দেশটির তেল রপ্তানি প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানও পারমাণবিক চুক্তির কিছু শর্ত লঙ্ঘন করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বাড়াতে শুরু করে।
গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সংঘাত
২০১৯ এবং ২০২০ সালের শুরুতে বেশ কয়েকটি বড় সামরিক সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছিল ২০২০ সালের জানুয়ারিতে বাগদাদে মার্কিন ড্রোন হামলায় ইরানের বিপ্লবী গার্ডের কুদস ফোর্সের প্রধান জেনারেল কাসেম সোলেইমানিকে হত্যা। এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ হিসেবে ইরান ইরাকে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এরপর থেকে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বড় আকারের সামরিক সংঘাত না হলেও, মধ্যপ্রাচ্যে ছায়াযুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে।
সাম্প্রতিক রহস্যময় হামলা
২০২০ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে ইরানে বেশ কয়েকটি রহস্যময় হামলা ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, যা আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ঘটনা:
২ জুলাই, ২০২০: নাতাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনায় বিস্ফোরণ। ইরান একে 'নাশকতামূলক কাজ' হিসেবে বর্ণনা করে।
* ৪ জুলাই, ২০২০: একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিস্ফোরণ।
* ৭ জুলাই, ২০২০: একটি শিল্প কারখানায় অগ্নিকাণ্ড।
* ১৯ জুলাই, ২০২০: বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাছে একটি তেল পাইপলাইনে বিস্ফোরণ।
* জুলাই মাস জুড়ে: তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে একাধিক শিল্প কারখানা, বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং সামরিক স্থাপনার কাছে রহস্যময় অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
ইরানের কর্মকর্তারা এসব ঘটনার জন্য ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ইঙ্গিত করেন, যদিও কোনো পক্ষই সরাসরি দায় স্বীকার করেনি। এই ঘটনাগুলো ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং আঞ্চলিক অস্থিরতা বাড়িয়ে তোলে।
মূল অগ্রগতি: চাপ বাড়ছে ট্রাম্পের ওপর
ইরানে ঘটে যাওয়া এসব রহস্যময় হামলার পর ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর বিভিন্ন দিক থেকে চাপ বাড়ছে। মার্কিন কংগ্রেসের সদস্য, গোয়েন্দা সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক মিত্ররা হোয়াইট হাউসের কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করছেন।
ডেমোক্র্যাটদের কঠোর সমালোচনা
ডেমোক্র্যাটিক পার্টির আইনপ্রণেতারা ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান নীতির কঠোর সমালোচনা করছেন। তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, এসব ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যপ্রাচ্যে একটি নতুন সংঘাতে টেনে আনতে পারে। সিনেটর ক্রিস মারফি এবং প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি'র মতো প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাটরা প্রশাসনকে এসব হামলার বিষয়ে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখার এবং কংগ্রেসকে অবহিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে, যা মার্কিন সংবিধানের লঙ্ঘন।
যুদ্ধ ক্ষমতা আইন: কিছু ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা "যুদ্ধ ক্ষমতা আইন" (War Powers Act) প্রয়োগের দাবি তুলেছেন, যা প্রেসিডেন্টকে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া সামরিক পদক্ষেপ নিতে বাধা দেয়। তারা বিশ্বাস করেন যে, ইরানকে ঘিরে চলমান পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়।
* তথ্যের অভাব: ডেমোক্র্যাটরা অভিযোগ করেছেন যে, প্রশাসন ইরান সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য কংগ্রেসের কাছে গোপন রাখছে, যা আইনপ্রণেতাদের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে বাধা দিচ্ছে।
গোয়েন্দা সম্প্রদায়ের বিভেদ
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যেও এসব হামলার কারণ এবং এর পেছনে কারা জড়িত তা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। কিছু সূত্র জানিয়েছে যে, ইসরায়েল এই হামলার পেছনে থাকতে পারে, তবে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি জড়িত ছিল কিনা তা নিয়ে স্পষ্ট তথ্য নেই। এই গোয়েন্দা বিভেদ ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান নীতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ মহলে অনেকেই মনে করেন, এই ধরনের ছায়াযুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।

আন্তর্জাতিক মিত্রদের উদ্বেগ
যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় মিত্ররা, বিশেষ করে ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং জার্মানি, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা ইরান পারমাণবিক চুক্তি রক্ষায় আগ্রহী এবং যেকোনো ধরনের সামরিক সংঘাত এড়াতে কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন বারবার যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা কমাতে এবং আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, এই ধরনের হামলা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
প্রভাব: কে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে?
ইরানের হামলা এবং এর প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপের প্রভাব বহুমাত্রিক। এটি কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ককেই নয়, মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, বৈশ্বিক অর্থনীতি এবং মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকেও প্রভাবিত করছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিগত চ্যালেঞ্জ
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের "সর্বোচ্চ চাপ" নীতি এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। একদিকে, ইরান তার পারমাণবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। অন্যদিকে, এসব হামলার কারণে উত্তেজনা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ছে। ট্রাম্প প্রশাসনকে এখন একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান নিতে হচ্ছে: ইরানকে চাপে রাখা এবং একই সঙ্গে যুদ্ধ এড়ানো। এটি একটি সূক্ষ্ম কূটনৈতিক কাজ যা বর্তমান পরিস্থিতিতে আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
মার্কিন-ইরান সম্পর্কের অবনতি
এই হামলাগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অবিশ্বাস ও শত্রুতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। উভয় দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে পরোক্ষভাবে সংঘাতের অভিযোগ করছে, যা ভবিষ্যতে যেকোনো আলোচনার পথকে আরও রুদ্ধ করে তুলছে। কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রায় নেই বললেই চলে, এবং তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে যোগাযোগও সীমিত।
আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ঝুঁকি
মধ্যপ্রাচ্যে এই হামলাগুলো আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে মারাত্মকভাবে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। ইসরায়েল, সৌদি আরব এবং অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তিগুলো ইরানের কার্যক্রমের ওপর কড়া নজর রাখছে। যেকোনো ভুল পদক্ষেপ বা ভুল বোঝাবুঝি বড় আকারের সংঘাতে রূপ নিতে পারে, যা সমগ্র অঞ্চলকে অস্থির করে তুলবে। ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে তার অস্তিত্বের জন্য হুমকি মনে করে এবং প্রয়োজনে সামরিক পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না বলে বারবার জানিয়েছে।
বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলে। তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় তেলের দাম বেড়ে যেতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতিকে মন্দার দিকে ঠেলে দিতে পারে। এছাড়া, পারস্য উপসাগরের শিপিং লেনগুলো বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পথ, যেখানে যেকোনো ধরনের সংঘাত বৈশ্বিক বাণিজ্যকে প্রভাবিত করবে।
মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও নির্বাচন
২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ইরানের পরিস্থিতি ট্রাম্পের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ। ডেমোক্র্যাটরা তার ইরান নীতিকে "বেপরোয়া" এবং "বিপজ্জনক" বলে আখ্যায়িত করছে। যদি উত্তেজনা আরও বাড়ে, তবে এটি ট্রাম্পের পুনঃনির্বাচনের সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। ভোটাররা এমন একজন নেতাকে পছন্দ করেন যিনি দেশকে যুদ্ধ থেকে দূরে রাখতে পারেন, বিশেষ করে যখন দেশের অর্থনীতি কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত।
এরপর কী: সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ
ইরানে হামলার ঘটনা এবং ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ আগামী দিনগুলোতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিতে পারে।
কংগ্রেসের ভূমিকা
মার্কিন কংগ্রেস, বিশেষ করে ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদ, ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ বজায় রাখবে। তারা ইরান নীতিতে আরও স্বচ্ছতা এবং কংগ্রেসের অনুমোদনের দাবি জানাবে। যুদ্ধ ক্ষমতা আইন নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হতে পারে, যা প্রেসিডেন্টের সামরিক ক্ষমতাকে সীমিত করার চেষ্টা করবে।
ইরানের প্রতিক্রিয়া
ইরান এই হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবে কী পদক্ষেপ নেয় তা গুরুত্বপূর্ণ। তারা অভ্যন্তরীণভাবে নিরাপত্তা জোরদার করতে পারে এবং আন্তর্জাতিক মহলে এসব হামলার জন্য ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে আরও সোচ্চার হতে পারে। পারমাণবিক কর্মসূচির ক্ষেত্রে ইরান আরও আগ্রাসী পদক্ষেপ নিতে পারে, যা আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলোর জন্য আরও বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।
কূটনৈতিক প্রচেষ্টা
জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দেবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং অন্যান্য মিত্ররা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করতে পারে, যদিও বর্তমান পরিস্থিতিতে তা কঠিন বলে মনে হচ্ছে।
মার্কিন নির্বাচন ও নীতির পরিবর্তন
নভেম্বরের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ইরানের ওপর মার্কিন নীতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যদি ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় নির্বাচিত হন, তবে তার "সর্বোচ্চ চাপ" নীতি অব্যাহত থাকতে পারে। তবে, যদি জো বাইডেন জয়ী হন, তবে তিনি পারমাণবিক চুক্তিতে ফিরে আসার এবং ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করতে পারেন, যদিও তাও কঠিন হবে। নির্বাচনের আগে ট্রাম্প প্রশাসন বড় কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত থাকতে পারে, তবে ছায়াযুদ্ধের পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।
ইরানে ঘটে যাওয়া এসব রহস্যময় হামলা এবং এর ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর বাড়তে থাকা চাপ মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। আগামী দিনগুলোতে এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেয়, তা দেখার জন্য বিশ্ব অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।
